23
Aug
2026
Interview
Interview with শহিদুল ইসলাম রাজী •
Agamir Somoy
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আগামীর সময়কে বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে স্থায়ী ফল পাওয়া সম্ভব নয়। গ্রেপ্তার মূলত একটি সাময়িক বা ‘কিউরেটিভ মেজার’ ব্যবস্থা। অথচ মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন ‘প্রিভেন্টিভ মেজার’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। অর্থাৎ মাদকের মূল উৎস, সীমান্তবর্তী চ্যানেল ও পুরো সাপ্লাই চেইন বন্ধ করা। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সদিচ্ছা প্রয়োজন। কারণ মাদকের পেছনে বড় ধরনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। এই স্বার্থের বলয় ভাঙতে সরকার কতটা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত, সেটিই মূল বিষয়।
তিনি বলেছেন, মাদকের মূল সোর্স বা উৎসের জায়গায় হাত না দিয়ে শুধু শহরকেন্দ্রিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানো হলে তা অনেকটা জনতুষ্টির চেষ্টা হয়ে দাঁড়ায়। এতে অপরাধ দমনের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয় না।
তার ভাষায়, মাদকের পেছনে বড় ধরনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থ বা ‘পলিটিক্যাল ইকোনমি’ কাজ করে। এই অর্থনৈতিক বলয় ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভাঙতে হলে দৃঢ় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশের রাজনৈতিক নির্ভরতা, পেশাদারিত্বের ঘাটতি ও অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি দূর করার দায়িত্বও সরকারের। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান নয়; সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছায় মাদকের উৎস ও সাপ্লাই চেইন কতটা বন্ধ করা যাচ্ছে, সেটিই হওয়া উচিত সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।
তিনি আরও বললেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে ছোট অপরাধী। যারা বেশি দিন কারাগারে থাকেন না, জামিনে বেরিয়ে যান। ফলে অপরাধীদের একটি চক্র তৈরি হয়, যেখানে একই অপরাধী বারবার গ্রেপ্তার হলেও অপরাধপ্রবণতা কমে না।