এই পরিস্থিতিতে আপাতত মনে হচ্ছে, এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারেও চরম অস্থিরতা দেখা দেবে। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সাময়িক লক্ষ্য অর্জনে অনেকটা সফল হলেও, বস্তুত বিশ্বশান্তি ক্রমশ ক্ষীণ করে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— যুক্তরাষ্ট্রের যে একক পরাশক্তির চর্চা দীর্ঘসময় ধরে চলছিল, অনেকেই ভাবছিলেন হয়তো ‘ব্যালেন্স অব পাওয়ার’-এর মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটবে এবং বিশ্বের অন্যান্য ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক আক্রমণ থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাটুকুও শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, আরও এক দীর্ঘ সময়ের জন্য এই একমেরু বিশ্বব্যবস্থা জারি থাকবে বলে মনে হচ্ছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য একটি চরম অশনিসংকেত।
Newspaper & Media
এই বিরোধ নিরসনে পরিসংখ্যানের ‘কমন সেট’ তত্ত্ব একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে, যার মূল লক্ষ্য হলো বিভেদ কমিয়ে ঐকমত্যের একটি ভিত্তি তৈরি করা। বিএনপি যে ধারাগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, সেগুলোর বাইরের বাকি বিষয়গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ জুলাই সনদের আলোকে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতা ও ছাড়ের মানসিকতা না রাখলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কেবল বিএনপি নয়, বরং সংসদের অন্য দলগুলোর দেওয়া দ্বিমতগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পদ্ধতি হবে উক্ত বিএনপিসহ সব প্রতিনিধিত্বকারী দলের প্রস্তাবগুলোকে একেকটি আলাদা বৃত্তে প্রতিস্থাপন করলে বৃত্তগুলোর ইন্টারসেক্টেড বা সম্মিলিত সাধারণ অংশটিই হবে একটি ‘কমন সেট’। এই সম্মিলিত অংশটুকুই হবে জনসার্বভৌমত্বের সত্যিকারের প্রতিফলন। অর্থাৎ ভোটাররা একই সঙ্গে দলগুলোর প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে সংসদে প্রেরণ করেছে এবং হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে তাদের দেওয়া নোট অব ডিসেন্টসহ সব অবস্থানের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। বিএনপি সরকার কেবল এই সর্বজনস্বীকৃত ধারাগুলোই বাস্তবায়ন করবে এবং সব দল এবং জোটের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সংবলিত বিষয়গুলো সংসদে বিতর্কের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করতে পারে। গণতান্ত্রিক উত্তরণকে স্থায়ী করতে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হয়। উভয় পক্ষ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলে সমাধান হতে হবে ‘কোয়ারসিভ’ বা বলপ্রয়োগমূলক, যা গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন ‘প্যাসিফিক মেজারস’ বা শান্তিপূর্ণ উপায়। দুপক্ষকেই ছাড় দিয়ে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে এই ‘কমন গ্রাউন্ড’-এ আসতে পারে।
সার্বিক দিক বিবেচনায়, এখন পর্যন্ত বড় মাপের কোনো অভিযোগ-অনুযোগ কিংবা তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন মোটাদাগে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে বলেই অনুমেয়। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের অংশগ্রহণের যে চিত্র পাওয়া গেছে, তাই হবে এর পেছনে যৌক্তিকতা। তবে নতুন করে ধর্মের যাচ্ছেতাই ব্যবহার, বিরোধীমতের যে কাউকে অপদস্থ ও চরিত্রহনন করা, মিডিয়ার বদৌলতে যে অসহনশীল অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও আস্থাহীনতা বৃদ্ধি পেতে পারে ভবিষ্যতে। এগুলো রোধ করতে না পারলে, নতুন সরকারের শান্তি বিনির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। এই জন্য সামাজিক চুক্তির ন্যায় আমাদের রাজনৈতিক চুক্তি হওয়া দরকার, যা মূলত হবে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’-এর আলোকে। দলীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে আগামী দিনগুলোতে ভেঞ্জেন্সফুল বা বিষোদগার এবং চরিত্রহননের রাজনীতি না করে নিজস্ব রাজনীতি হাজির করবেন। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই হওয়া উচিত নয়, বরং এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার একটি সমন্বিত প্রতিফলন হওয়া উচিত। কেবল সুস্থ রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং অর্থবহ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক রূপান্তর সফল হতে পারে। যদিও বিএনপি বারবার স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে যে তারা ৩১ দফার মাধ্যমে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন করবে। জামায়াতের সেই আগ্রহটা আরেকটু বাড়ালে হয়তো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এই রাজনৈতিক চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারবে, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি হবে এবং নিজস্ব রাজনীতি উপস্থাপনের চেষ্টা থাকবে।
In conclusion, while good governance may dismantle the physical infrastructure of extortion, it remains powerless against the duplicity of religious core values that disguise predatory greed beneath a veneer of devotion. Whoever emerges victorious on February 12 will inherit a profound burden of public distrust. The BNP must do more than suspend minor cadres to shed the ‘extortionist’ label; it must uproot the entrenched culture of political plunder. Jamaat, conversely, must decide whether it is a 21st-century political party or a 7th-century ideological vanguard. Until then, Bangladeshi voters remain spectators to a familiar tragedy: the faces change, but the malignity persists over responsible politics.
প্রয়োজন সত্যিকার অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। এর মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও টেকসই হয়ে উঠবে। তখন কোনো দল দ্বিদলীয় ধারার অন্যতম প্রধান পক্ষ হয়ে উঠতে চাইলে নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের আকর্ষণ করার দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হবে। অনিশ্চিত দীর্ঘ সময় কোনো দলকে নির্বাচনী মাঠের বাইরে রেখে নিজে প্রধান হয়ে ওঠা যে অসম্ভব– বিএনপি ও জামায়াত নিজেই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য পন্থা হতে পারে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’, তা যে কোনো সময়ই কার্যকর করা হোক না কেন।
Dhaka University Peace and Conflict Studies associate professor Muhammad Sazzad Hossain Siddiqui said that such decrease in the deployment would increase entry of illegal arms, illegal intrusion, smuggling, and facilitate the cross-border illicit economic activities. ‘We face difficulties in managing our borders during the normal time. As we decreased some manpower from the border, some illicit traders will take advantage of the situation,’ he said. He added that if there was a cordial environment among the political parties, there would be no requirement of deploying military and paramilitary forces in the election.
আরাকান আর্মির হাতে আটক ‘৪২০ জেলে’, তাঁদের উদ্ধারের আকুতি
Interview with নিজস্ব প্রতিবেদক • প্রথম আলো
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধের অনুপস্থিতি মানে শান্তি নয়। কাঠামোগত যে বৈষম্য সেটা সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট তৈরি করে। সমুদ্র বিজয় হলেও সমুদ্রে বাংলাদেশের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সমতল, পাহাড় ও দ্বীপে—সবখানে একই পরিস্থিতি বিদ্যমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে আমাদের সামষ্টিকভাবে প্রশ্ন তুলতে হবে।
বৈশ্বিক আধিপত্য, বিপন্ন বিশ্বশান্তি ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে করণীয়
Interview with অনুলিখন : মানজুর হোছাঈন মাহি • Kaler Kantha
শান্তি একটি আপেক্ষিক প্রত্যয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিপীড়ক (হোক সে ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্র) যেমন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে এক ধরনের শান্তি অন্বেষণ করে, তেমনি সেই নিপীড়ন তথা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েও মজলুম মানুষ মুক্তি তথা শান্তির পথ খোঁজে। শান্তি অন্বেষণের এই প্রক্রিয়াটি পরিবার থেকে সমাজ এবং রাষ্ট্র থেকে বিশ্ব পরিমণ্ডল পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন আন্ত সংযোগ, যা পরম্পরার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। বিশ্বশান্তি রক্ষায় যেমন জাতিসংঘের মতো সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গড়ে উঠেছে পারিবারিক ও সামাজিক রীতিনীতি।
এ বিষয়ে ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী সমকালকে বলেন, বাচ্চাগুলো একেবারেই শিশুসুলভ আচরণ দিয়ে খেলাধুলা করছিল; উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। এটা এই বয়সের একেবারে সঠিক কাজ করছিল তারা। ডাকসুর নামে কান ধরে উঠবস, লাঠি নিয়ে শাসানো শিশু নিপীড়নের পর্যায়ে পড়ে। এখানে শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। সেই শক্তিটা হচ্ছে বিধি ও আইনবহির্ভূত। তিনি বলেন, কান ধরে উঠবস করানো একেবারে গর্হিত অপরাধ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ভার্চুয়াল জগতে ভিজুয়ালাইজেশনের যুগে এই বাচ্চাগুলো যত বড় হবে, বিষয়টা তাদের ট্রমাটাইজ করার আশঙ্কা অনেক বেশি। এ জন্যই এটা আইন এবং নিয়মের মধ্যে এনে তদন্ত করা দরকার এবং এই বাচ্চাগুলোকে কাউন্সেলিং দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, সর্বমিত্র চাকমা এর আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। শুধু সর্বমিত্র নয়; ডাকসুর অধিকাংশজন নীতিমালা এবং দায়িত্ববহির্ভূত কাজই করে যাচ্ছিল। সেগুলোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় উদাসীন ছিল। সকল ঘটনা তদন্ত করে ডাকসুর কার্যক্রম সীমিত করা উচিত।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে পাল্টাপাল্টি
Interview with কাজী সোহাগ ও আবির আব্দুল্লাহ • Bangladesh Protidin
নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কীভাবে দেখছেন-জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে দলগুলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। কিন্তু দিনশেষে মানুষ আদর্শিক রাজনীতি করে না, করে পেশিশক্তির রাজনীতি। এটা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’ তিনি বলেন, ‘এখনই যেভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি বা অভিযোগের রাজনীতি শুরু হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে সহিংস ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’ বিশ্লেষকদের মতে সামনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।