ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হত্যা ফৌজদারি অপরাধ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয় এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। ফৌজদারি অপরাধ মানবাধিকারের অপেক্ষা অধিকতর বড় ইস্যু। সীমান্ত রেখায় যাওয়া কিংবা সীমান্ত অতিক্রম চেষ্টা করলে আইনের আওতায় না এনে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা ভারতের মত বড় রাষ্ট্রের দিক থেকে কোন দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারেনা বলে তিনি মনে করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারত এখানে মধ্যযুগীয় রাজনৈতিক বাস্তববাদ (রিয়েলিজম) চর্চা করছে যা থমাস হবসের লিভায়াথানে বর্ণিত মনটার কিং এর ধারণাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমান মানবতাবাদী যুগ-বাস্তবতার সাথে যা সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক। সীমান্তে দেখা মাত্রই গুলি করে হত্যা তারই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি যুক্তি দেন। সীমান্তে অস্বাভাবিক গতিবিধি পরিলক্ষিত হলেই গুলি করে হত্যা এমনকি হত্যা করে সীমান্তের কাঁটা তারে ঝুলিয়ে রাখা এবং পরবর্তীতে এই ধরনের বর্বরোচিত কার্যকলাপের বিচার না করা মূলত তাদের আগ্রাসী মনোভাবেরই লক্ষণ। আমরা ভেবেছিলাম, দেরিতে হলেও বর্তমান সরকারের হাত ধরে এতকাল চলে আসা নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তে নিদেনপক্ষে কৌশলগত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক তৈরির যাত্রা শুরু হবে । সে সম্পর্কের জায়গা থেকে আমাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক তৈরি হবে। কিন্তু চলমান অস্থিতিশীলতা দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
Colonial Hangover, Authoritarian Failure: Lessons from Sri Lanka, Bangladesh and Syria
Media New Age Limited