Newspaper & Media

দীর্ঘদিনের এই মিত্র দল দুটির শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্কের কারণ জানতে চাইলে রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াত হয়ত মনে করছে, বিশেষ এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, যেখানে বৃহৎ দুইটি দলের একটির কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা আছে, অন্যটি শীর্ষ নেতৃত্বহীন, ক্ষমতায় যাওয়ার এমন সুবর্ণ সুযোগ হয়ত আর পাবেনা। ফলে, তারা চাইবেই যে-কোনো মূল্যে বিএনপিকে কোনঠাসা করতে। তিনি আরও বলেন, জামায়াত মূলত ম্যাকিয়াভ্যালিয়ান রাজনীতি করছে, যেখানে ধূর্ততা ও মাঠে শক্তি প্রদর্শন উভয় চেষ্টা সমান্তরাল রাখার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে, দলটির অনেক নেতা-কর্মী-সমর্থককে আজকাল দেখা যাচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বর্তমান চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রায়ই নিষ্কলঙ্ক আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করতে। তিনি বলেন, বিএনপি ও এর নেতাকর্মীসহ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নেতিবাচকভাবে ঢালাও উপস্থাপনও লক্ষণীয়। এমন কৌশল হয়ত সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর ন্যায় বিএনপির ভোটব্যাংককে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ঢাবির এই শিক্ষক মনে করেন, মূলত ক্ষমতাকেন্দ্রিক সুবিধাবাদের রাজনীতিই আজকের এই পরিস্থিতিতে এক সময়ের মিত্রকে শত্রুতে পরিণত করেছে। বিএনপির ভূমিকার বিষয়ে এ অধ্যাপক বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে ছিল। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে, শীর্ষ নেতৃত্বহীন এই দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায়ই দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজির বিষয়টি আলোচনায় আসে। অভিযোগসমূহ সফলতার সহিত মোকাবেলা করতে দলটি ব্যর্থ হয়েছে। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে যুগের চাহিদায় নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে বিএনপির তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। যার কারণে, জামায়াত মানুষের কাছে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের অনুরূপ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জামায়াতের ক্ষমতামুখী উচ্চাভিলাষ জোরদার হচ্ছে। যদিও এ পর্যন্ত হওয়া প্রায় সকল জরিপে জনগণ বিএনপিকে এগিয়ে রাখছে। ফলে, ক্ষমতাকেন্দ্রিক স্বার্থের দ্বন্দ্বই কখনো কখনো গড়াচ্ছে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ ও সংঘর্ষে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পুলিশের এত বড় বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। কিন্তু সেখান থেকে এই দেড় বছরেও পুলিশ বাহিনী সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের যথেষ্ট ঘাটতি দেখা গেছে। এ রকম দুর্বল অবস্থার মাঝেও পুলিশ যা করেছে তা সন্তোষজনক। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের মতো আয়োজনে শুধু পুলিশের ওপর ভরসা করার সুযোগ নেই। তবুও এখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকছে, বিজিবি থাকছে। সরকার বা রাষ্ট্রকে এখন তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টা বুঝতে হবে। এখানে সক্ষমতা প্রদর্শনের বিষয়টিও জরুরি। দ্রুত সক্ষমতা না দেখালে বিপদ বাড়বে।’ ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি এখনো আইন হাতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হলেন। এর আগে নুরুল হক নুর হামলার শিকার হন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হলো। একজন শিক্ষক যতই খারাপ হোন না কেন, তাকে এভাবে কি লাঞ্ছিত করা যায়? কিন্তু এসব প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই। বিচারও হচ্ছে না। এসব কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি খুব ভালো মনে হচ্ছে না।’

রাজনীতির এ পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে প্রতিযোগিতা না বলে দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী। যুক্তি তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতি হচ্ছে বিনিয়োগের একটি বিষয়। এটাকে নিরাপদ করতে নির্বাচনে জয়লাভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে নির্বাচন প্রতিযোগিতার পরিবর্তে দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটি দল নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকবে। কিন্তু রাজনীতির সংস্কৃতি কিন্তু বদলায়নি। তাই আগামী নির্বাচন সহিংসতা হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

Among other issues raised and discussed, Dr. Sazzad Siddiqui, as a discussant, emphasized the importance of political reconciliation, a topic that received significant attention and was discussed with importance during the session.

“The police and other civilian institutions must be both empowered and held accountable so that the state does not routinely rely on the armed forces and intelligence agencies in civil matters. Such reforms would reduce dependency and potential abuse of power. But if mishandled, this moment will only revive old fears of impunity and democratic fragility.”

গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক কারণ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির পেছনে প্রভাব রেখেছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীও। তবে এর সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণও যুক্ত থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।