বাংলাদেশে জোটভিত্তিক আন্দোলনের সুফল থাকলেও নির্বাচনের আগে কেবল সুবিধাভিত্তিক জোটের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিই বেশি। জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াত বা আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি জোটগুলো মূলত নির্বাচনমুখী স্বার্থভিত্তিক গড়ে উঠেছিল, যার ফলে এই দুই দলের বাইরে এসে বৃহৎ কোনো দলের আবির্ভাব হয়নি। অধিকন্তু, এ দুটি দলকে অনেক সময় অগণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে এদের শরিক দলগুলো। এ ক্ষেত্রে জোটগুলোর চরিত্র হয় অস্থায়ী, উদ্দেশ্যনির্ভর এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পরিবর্তে পরিচালিত হয় ভোটকেন্দ্রিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে। এই ধরনের জোট-রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একে অন্যকে দ্রুতই একই খাঁচার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে; শুরু হয় ‘ট্যাগিং’। এর ফলে রাজনীতিতে পারস্পরিক বিষোদ্গার ও প্রতিহিংসা বাড়ে, এমনকি জিঘাংসাও তীব্র হয়; পাশাপাশি ভোটের বাইরে থাকা নীতিনির্ধারণী সংলাপ, আন্দোলনের বৈচিত্র্য ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের সম্ভাবনাও ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে।
Newspaper & Media
প্রথম আলো ডেইলি স্টারে হামলা পরিকল্পিত মামলায় আসামি অজ্ঞাতনামা
Interview with জামাল উদ্দিন • Bangla Tribune
বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি পরিকল্পিত? ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে যে হামলা চালিয়েছে, তা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন, সম্পাদকদের সংগঠন ‘নোয়াব’, রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন— এগুলো কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং রাজনৈতিক ও আদর্শিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে স্বাধীন মতপ্রকাশকে রুদ্ধ করতেই এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ঘটনায় ওসমান হাদির ওপর আক্রমণ থেকে তার মৃত্যু সংবাদ আসা পর্যন্ত অনেকগুলো ডট যদি আমরা একটার সঙ্গে আরেকটা মিলিয়ে দেখি, তাহলে এর পেছনের কারণ বা ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত কিনা, তা বের করতে পারবো বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের জনগণের বিরাট অংশকে শিক্ষিত করতে পারিনি। ফলে যারা সমাজে নানা মাধ্যমে প্রভাব রাখতে পারে, তারা এই জনগোষ্ঠীকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে, নিজেদের ব্যক্তিগত ভালো লাগা বা না লাগার ওপর ভিত্তি করে। আপাতদৃষ্টিতে কাকতালীয় মনে হলেও তা যে না— সেটা বুঝতে পারা যাবে যদি আমরা ওসমান হাদির ওপর আক্রমণ থেকে তার মৃত্যু সংবাদ আসা পর্যন্ত ঘটে চলা ও ‘উসকানিগুলোর’ ধরন মিলাতে পারি।’’
ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এই বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে নরওয়ের বারগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাইব্রিড পিসবিল্ডিংয়ের ওপর পিএইচডি সম্পন্ন করেন। শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিকার নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।
ঢাকা-দিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন!
Interview with মিজানুর রহমান খান • The Daily Naya Shatabdi
তবে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে থাকলে দু’দেশের হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। দৈনিক নয়া শতাব্দীকে তিনি বলেন, দুটি দেশ যখন কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক দিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে থাকে তখন এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে। দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে একটি রাষ্ট্র কোনো বিষয়ে অভিযোগ তুলে প্রতিক্রিয়া জানাতে রাষ্ট্রদূত বা দূতাবাসের প্রধানকে তলব করলে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রটিও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে একই ঘটনার জন্ম দেয়। এটি দুটি দেশের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এ ঘটনা দু ‘দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হাসনাত আব্দুল্লার সাম্প্রতিক বক্তব্যটির প্রতি ইঙ্গিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকারি পদাধিকারী নয় এমন কিছু ব্যক্তির ‘ননস্টেট বক্তব্য’ গুরুতর নয়। কারণ তাদের বক্তব্য রাষ্ট্রের বা সরকারের নয়। তবে এধরণের ‘ননস্টেট বক্তব্য’ বা মন্তব্য অনেক সময় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রটি ‘সিরিয়াস’ হিসেবে নিয়ে থাকে। তাই উদ্বেগ জানাতে হয়তো নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনারকে তলব করেছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিএনপি-জামায়াতের সেই ‘সখ্যতা’ এখন ‘শত্রুতা’, নেপথ্যে কী?
Interview with মো. জাফর আলী • The Daily Campus
দীর্ঘদিনের এই মিত্র দল দুটির শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্কের কারণ জানতে চাইলে রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াত হয়ত মনে করছে, বিশেষ এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, যেখানে বৃহৎ দুইটি দলের একটির কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা আছে, অন্যটি শীর্ষ নেতৃত্বহীন, ক্ষমতায় যাওয়ার এমন সুবর্ণ সুযোগ হয়ত আর পাবেনা। ফলে, তারা চাইবেই যে-কোনো মূল্যে বিএনপিকে কোনঠাসা করতে। তিনি আরও বলেন, জামায়াত মূলত ম্যাকিয়াভ্যালিয়ান রাজনীতি করছে, যেখানে ধূর্ততা ও মাঠে শক্তি প্রদর্শন উভয় চেষ্টা সমান্তরাল রাখার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে, দলটির অনেক নেতা-কর্মী-সমর্থককে আজকাল দেখা যাচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বর্তমান চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রায়ই নিষ্কলঙ্ক আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করতে। তিনি বলেন, বিএনপি ও এর নেতাকর্মীসহ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নেতিবাচকভাবে ঢালাও উপস্থাপনও লক্ষণীয়। এমন কৌশল হয়ত সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর ন্যায় বিএনপির ভোটব্যাংককে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ঢাবির এই শিক্ষক মনে করেন, মূলত ক্ষমতাকেন্দ্রিক সুবিধাবাদের রাজনীতিই আজকের এই পরিস্থিতিতে এক সময়ের মিত্রকে শত্রুতে পরিণত করেছে। বিএনপির ভূমিকার বিষয়ে এ অধ্যাপক বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে ছিল। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে, শীর্ষ নেতৃত্বহীন এই দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায়ই দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজির বিষয়টি আলোচনায় আসে। অভিযোগসমূহ সফলতার সহিত মোকাবেলা করতে দলটি ব্যর্থ হয়েছে। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে যুগের চাহিদায় নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে বিএনপির তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। যার কারণে, জামায়াত মানুষের কাছে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের অনুরূপ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জামায়াতের ক্ষমতামুখী উচ্চাভিলাষ জোরদার হচ্ছে। যদিও এ পর্যন্ত হওয়া প্রায় সকল জরিপে জনগণ বিএনপিকে এগিয়ে রাখছে। ফলে, ক্ষমতাকেন্দ্রিক স্বার্থের দ্বন্দ্বই কখনো কখনো গড়াচ্ছে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ ও সংঘর্ষে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পুলিশের এত বড় বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। কিন্তু সেখান থেকে এই দেড় বছরেও পুলিশ বাহিনী সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের যথেষ্ট ঘাটতি দেখা গেছে। এ রকম দুর্বল অবস্থার মাঝেও পুলিশ যা করেছে তা সন্তোষজনক। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের মতো আয়োজনে শুধু পুলিশের ওপর ভরসা করার সুযোগ নেই। তবুও এখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকছে, বিজিবি থাকছে। সরকার বা রাষ্ট্রকে এখন তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টা বুঝতে হবে। এখানে সক্ষমতা প্রদর্শনের বিষয়টিও জরুরি। দ্রুত সক্ষমতা না দেখালে বিপদ বাড়বে।’ ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি এখনো আইন হাতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হলেন। এর আগে নুরুল হক নুর হামলার শিকার হন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হলো। একজন শিক্ষক যতই খারাপ হোন না কেন, তাকে এভাবে কি লাঞ্ছিত করা যায়? কিন্তু এসব প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই। বিচারও হচ্ছে না। এসব কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি খুব ভালো মনে হচ্ছে না।’
আন্দোলনের সঙ্গী হচ্ছে প্রতিপক্ষ মতভিন্নতায় ভেঙে যাওয়া দল হচ্ছে জোটবদ্ধ
Interview with কাজী সোহাগ • Bangladesh Protidin
রাজনীতির এ পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে প্রতিযোগিতা না বলে দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী। যুক্তি তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতি হচ্ছে বিনিয়োগের একটি বিষয়। এটাকে নিরাপদ করতে নির্বাচনে জয়লাভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে নির্বাচন প্রতিযোগিতার পরিবর্তে দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটি দল নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকবে। কিন্তু রাজনীতির সংস্কৃতি কিন্তু বদলায়নি। তাই আগামী নির্বাচন সহিংসতা হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
মব সন্ত্রাস: প্রশ্নের মুখে মানবাধিকার পরিস্থিতি
Interview with মাহমুদুল আলম • Khaborer Kagoj
কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও শিক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় ‘সাইবার ক্রাইম’ বাড়ছে: ড সাজ্জাদ সিদ্দিকী
Interview with টিডিসি রিপোর্ট • The Daily Campus
𝗜𝗻 𝗣𝘂𝗿𝘀𝘂𝗶𝘁 𝗼𝗳 𝗮 𝗕𝗲𝘁𝘁𝗲𝗿 𝗣𝗼𝗹𝗶𝘁𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗖𝘂𝗹𝘁𝘂𝗿𝗲 𝗶𝗻 𝗕𝗮𝗻𝗴𝗹𝗮𝗱𝗲𝘀𝗵’𝘀 𝗗𝗲𝗺𝗼𝗰𝗿𝗮𝘁𝗶𝗰 𝗧𝗿𝗮𝗻𝘀𝗶𝘁𝗶𝗼𝗻.
Royal Norwegian Embassy in Dhaka and The Dhaka Tribune
Among other issues raised and discussed, Dr. Sazzad Siddiqui, as a discussant, emphasized the importance of political reconciliation, a topic that received significant attention and was discussed with importance during the session.