Newspaper & Media

আশা প্রকাশ করে ড. সিদ্দিকী বলেন, আমরা আশা করি, দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে শুভেন্দু অধিকারী আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং সব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করবেন। ভারত যেমন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকের রাষ্ট্র, তেমনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও তাদের সব নাগরিকের। কোনো রাষ্ট্রই কেবল একটি ধর্ম বা একটি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য হতে পারে না। দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ দুই দেশের সম্পর্কেও স্থিতিশীলতা আনতে পারে। অন্যথায়, একতরফা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, ভারতের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজের একটি অংশও বিজেপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থানকে সমর্থন করছে, যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের উচিত হবে আবেগপ্রবণ বা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির আলোকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা। প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিবাদ জানানো এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরে এর স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী অবশ্য মনে করছেন, বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার। অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল ও কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে তৎপরতা দেখাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ এই ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। ড. সাজ্জাদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। সেটি মাথায় রেখে এই উত্তেজনায় কারও পক্ষে থাকার বাস্তবতা বাংলাদেশের নেই। কোনো দেশেরই তো যুদ্ধে জড়ানো উচিত না। বাংলাদেশেরও যুদ্ধের বিরুদ্ধে যে অবস্থান, সেটি ধরে রাখতে হবে। দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা যত বাড়বে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা তত হুমকির মুখে পড়বে। সেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ দুপক্ষের মধ্যেই সূক্ষ্ণভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারে।’সম্ভব হলে দুপক্ষের মধ্যস্ততায় বাংলাদেশও এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ড. সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য সুযোগ রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার। সরকার যদি সূক্ষ্ণভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারে, মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা এই সরকারের ভাবমূর্তিকে যেমন বাড়িয়ে তুলবে, তেমনি পরবর্তী যেকোনো সরকারের জন্যও কূটনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী একটি অবস্থান গড়ে দিয়ে যেতে পারবে।’

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে চরিত্রহনন, সংঘবদ্ধ আক্রমণ ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সুস্থ ধারায় ফিরতে দিচ্ছে না। এসব প্রবণতা কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির ও অনিশ্চিত করে তুলছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে চরিত্রহনন, সংঘবদ্ধ আক্রমণ ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সুস্থ ধারায় ফিরতে দিচ্ছে না। এসব প্রবণতা কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির ও অনিশ্চিত করে তুলছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক শূন্যতা বা স্থবিরতার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। আমার কাছে মনে হয়, এই নেতিবাচক প্রবণতার অন্যতম বড় বাহক হয়ে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এ রাজনীতি বিশ্লেষক বলেন, আমাদের সমাজে একসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু আধুনিকতার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়েই তথাকথিত স্বাধীনতার নামে আমরা ‘পোস্ট-মডার্ন’ সংস্কৃতিকে মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহিত করছি। এই অবাধ ও অসংযত বক্তব্যের পেছনে আছে পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থা, সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের বিকৃত মানসিকতা এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো অনেকক্ষেত্রে নিজেদের হীন স্বার্থে এসব কার্যক্রমকে উৎসাহ ও প্রচার দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ঢাবির এ অধ্যাপকের ভাষ্য, এটি শুধু কোনো নির্দিষ্ট দলের শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাধারণ মানুষও আজ এই অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। অথচ নীতিবহির্ভূত কোনো আচরণের প্রতিক্রিয়ায় নিপীড়নমূলক পন্থা নয়, বরং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবেই একজন ব্যক্তি অন্য কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে পারেন। কিন্তু সেই বিরূপতা বা অপছন্দের প্রকাশ যদি এমনভাবে ঘটে যা সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতি গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে গভীর সংকট সৃষ্টি করে। তাই বিরোধিতা বা সমালোচনা হওয়া উচিত কাঠামোবদ্ধ ও দায়িত্বশীল উপায়ে। বিশেষ করে, রাষ্ট্রের প্রভাবশালী ও অনুকরণীয় ব্যক্তিরা যদি এক্ষেত্রে ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করেন, তবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনেকটাই সুস্থ ধারায় ফিরতে পারে। কিন্তু তারাই যদি নীতিচ্যুত হন, তবে সেটিই সমাজের অগ্রগতির পথে স্থায়ী ও বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সংকট সমাধানের উপায় জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, মূল ধারার সংবাদমাধ্যম এই ধরণের বক্তৃতা ও বিবৃতির নেতিবাচক দিক স্পষ্ট করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতাকর্মীদের নজরদারিসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

অনেকের ধারণা, শান্তিচুক্তি হলেই হয়তো শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, শান্তি তার গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। বাস্তবে শান্তির কোনো গন্তব্য নেই, শান্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। হয়তো এর আপেক্ষিকতার ওপর নির্ভর করে যে কোন ধরনের শান্তি (ইতিবাচক, নেতিবাচক) কখন বিরাজ করছে বা করবে। এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করার আগে কিছু ঐতিহাসিক বাস্তবতা স্মরণে রাখা প্রয়োজন। ১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় দুই হাজার শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে ধরলে এই সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শান্তিবিশারদদের গবেষণা বলছে, স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির প্রায় ৫০ শতাংশই প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে অকার্যকর হয়ে পড়ে। অর্থাৎ শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের হার বেশ হতাশাজনক। ট্রাম্পের এই ধরনের অবস্থান স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা কমিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে পরাজয়ের গ্লানি মোছার শেষ চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় ইরানের পক্ষে কেবল প্রতিরোধ অব্যাহত রাখাই হবে দিন শেষে দেশটির কৌশলগত বিজয় এবং সেই সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ।

এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রগুলোর সামনে এখন একমাত্র পথ হলো ‘ব্যালেন্স অব পাওয়ার’ বা শক্তির ভারসাম্য নিশ্চিত করা। স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার ‘লং পিস’ বা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির মূলে ছিল দুটি পরাশক্তির মধ্যকার ক্ষমতার সমতা। আজ যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউনিপোলার সিস্টেম বা একপাক্ষিক আধিপত্যের মাধ্যমে বিশ্ব শাসন করতে চায়, তখন ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তির উত্থান কেবল একটি ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক আবশ্যকতা। ইরান যদি এই সংকটে টিকে থাকতে পারে, তবেই তা মধ্যপ্রাচ্যে অবাঞ্ছিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের উচ্চাভিলাষকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।

এই পরিস্থিতিতে আপাতত মনে হচ্ছে, এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারেও চরম অস্থিরতা দেখা দেবে। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সাময়িক লক্ষ্য অর্জনে অনেকটা সফল হলেও, বস্তুত বিশ্বশান্তি ক্রমশ ক্ষীণ করে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— যুক্তরাষ্ট্রের যে একক পরাশক্তির চর্চা দীর্ঘসময় ধরে চলছিল, অনেকেই ভাবছিলেন হয়তো ‘ব্যালেন্স অব পাওয়ার’-এর মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটবে এবং বিশ্বের অন্যান্য ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক আক্রমণ থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাটুকুও শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, আরও এক দীর্ঘ সময়ের জন্য এই একমেরু বিশ্বব্যবস্থা জারি থাকবে বলে মনে হচ্ছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য একটি চরম অশনিসংকেত।

এই বিরোধ নিরসনে পরিসংখ্যানের ‘কমন সেট’ তত্ত্ব একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে, যার মূল লক্ষ্য হলো বিভেদ কমিয়ে ঐকমত্যের একটি ভিত্তি তৈরি করা। বিএনপি যে ধারাগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, সেগুলোর বাইরের বাকি বিষয়গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ জুলাই সনদের আলোকে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতা ও ছাড়ের মানসিকতা না রাখলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কেবল বিএনপি নয়, বরং সংসদের অন্য দলগুলোর দেওয়া দ্বিমতগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পদ্ধতি হবে উক্ত বিএনপিসহ সব প্রতিনিধিত্বকারী দলের প্রস্তাবগুলোকে একেকটি আলাদা বৃত্তে প্রতিস্থাপন করলে বৃত্তগুলোর ইন্টারসেক্টেড বা সম্মিলিত সাধারণ অংশটিই হবে একটি ‘কমন সেট’। এই সম্মিলিত অংশটুকুই হবে জনসার্বভৌমত্বের সত্যিকারের প্রতিফলন। অর্থাৎ ভোটাররা একই সঙ্গে দলগুলোর প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে সংসদে প্রেরণ করেছে এবং হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে তাদের দেওয়া নোট অব ডিসেন্টসহ সব অবস্থানের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। বিএনপি সরকার কেবল এই সর্বজনস্বীকৃত ধারাগুলোই বাস্তবায়ন করবে এবং সব দল এবং জোটের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সংবলিত বিষয়গুলো সংসদে বিতর্কের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করতে পারে। গণতান্ত্রিক উত্তরণকে স্থায়ী করতে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হয়। উভয় পক্ষ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলে সমাধান হতে হবে ‘কোয়ারসিভ’ বা বলপ্রয়োগমূলক, যা গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন ‘প্যাসিফিক মেজারস’ বা শান্তিপূর্ণ উপায়। দুপক্ষকেই ছাড় দিয়ে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে এই ‘কমন গ্রাউন্ড’-এ আসতে পারে।

সার্বিক দিক বিবেচনায়, এখন পর্যন্ত বড় মাপের কোনো অভিযোগ-অনুযোগ কিংবা তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন মোটাদাগে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে বলেই অনুমেয়। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের অংশগ্রহণের যে চিত্র পাওয়া গেছে, তাই হবে এর পেছনে যৌক্তিকতা। তবে নতুন করে ধর্মের যাচ্ছেতাই ব্যবহার, বিরোধীমতের যে কাউকে অপদস্থ ও চরিত্রহনন করা, মিডিয়ার বদৌলতে যে অসহনশীল অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও আস্থাহীনতা বৃদ্ধি পেতে পারে ভবিষ্যতে। এগুলো রোধ করতে না পারলে, নতুন সরকারের শান্তি বিনির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। এই জন্য সামাজিক চুক্তির ন্যায় আমাদের রাজনৈতিক চুক্তি হওয়া দরকার, যা মূলত হবে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’-এর আলোকে। দলীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে আগামী দিনগুলোতে ভেঞ্জেন্সফুল বা বিষোদগার এবং চরিত্রহননের রাজনীতি না করে নিজস্ব রাজনীতি হাজির করবেন। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই হওয়া উচিত নয়, বরং এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার একটি সমন্বিত প্রতিফলন হওয়া উচিত। কেবল সুস্থ রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং অর্থবহ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক রূপান্তর সফল হতে পারে। যদিও বিএনপি বারবার স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে যে তারা ৩১ দফার মাধ্যমে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন করবে। জামায়াতের সেই আগ্রহটা আরেকটু বাড়ালে হয়তো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এই রাজনৈতিক চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারবে, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি হবে এবং নিজস্ব রাজনীতি উপস্থাপনের চেষ্টা থাকবে।

In conclusion, while good governance may dismantle the physical infrastructure of extortion, it remains powerless against the duplicity of religious core values that disguise predatory greed beneath a veneer of devotion. Whoever emerges victorious on February 12 will inherit a profound burden of public distrust. The BNP must do more than suspend minor cadres to shed the ‘extortionist’ label; it must uproot the entrenched culture of political plunder. Jamaat, conversely, must decide whether it is a 21st-century political party or a 7th-century ideological vanguard. Until then, Bangladeshi voters remain spectators to a familiar tragedy: the faces change, but the malignity persists over responsible politics.