Newspaper & Media

প্রয়োজন সত্যিকার অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। এর মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও টেকসই হয়ে উঠবে। তখন কোনো দল দ্বিদলীয় ধারার অন্যতম প্রধান পক্ষ হয়ে উঠতে চাইলে নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের আকর্ষণ করার দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হবে। অনিশ্চিত দীর্ঘ সময় কোনো দলকে নির্বাচনী মাঠের বাইরে রেখে নিজে প্রধান হয়ে ওঠা যে অসম্ভব– বিএনপি ও জামায়াত নিজেই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য পন্থা হতে পারে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’, তা যে কোনো সময়ই কার্যকর করা হোক না কেন।

‘সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন’– এ ধরনের হতাশাজনক বাক্য আজকাল বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। অনেকের মতে, এর মূলে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ‘ঘৃণার চাষ’। ঘৃণা হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসে না। ঘৃণার পেছনে কার্যকারণ সম্পর্কের যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। তবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যখন অনিয়ন্ত্রিত ঘৃণার চাষ চলে, তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোও ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ইতিহাসে এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। সম্প্রতি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার সঙ্গে ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এ ঘৃণা প্রকল্পের অংশ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অবস্থাও এতে ধরা পড়ে।

বাংলাদেশে জোটভিত্তিক আন্দোলনের সুফল থাকলেও নির্বাচনের আগে কেবল সুবিধাভিত্তিক জোটের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিই বেশি। জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াত বা আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি জোটগুলো মূলত নির্বাচনমুখী স্বার্থভিত্তিক গড়ে উঠেছিল, যার ফলে এই দুই দলের বাইরে এসে বৃহৎ কোনো দলের আবির্ভাব হয়নি। অধিকন্তু, এ দুটি দলকে অনেক সময় অগণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে এদের শরিক দলগুলো। এ ক্ষেত্রে জোটগুলোর চরিত্র হয় অস্থায়ী, উদ্দেশ্যনির্ভর এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পরিবর্তে পরিচালিত হয় ভোটকেন্দ্রিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে। এই ধরনের জোট-রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একে অন্যকে দ্রুতই একই খাঁচার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে; শুরু হয় ‘ট্যাগিং’। এর ফলে রাজনীতিতে পারস্পরিক বিষোদ্গার ও প্রতিহিংসা বাড়ে, এমনকি জিঘাংসাও তীব্র হয়; পাশাপাশি ভোটের বাইরে থাকা নীতিনির্ধারণী সংলাপ, আন্দোলনের বৈচিত্র্য ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের সম্ভাবনাও ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে।

“The police and other civilian institutions must be both empowered and held accountable so that the state does not routinely rely on the armed forces and intelligence agencies in civil matters. Such reforms would reduce dependency and potential abuse of power. But if mishandled, this moment will only revive old fears of impunity and democratic fragility.”

আজকের সমকালে: "গোপালগঞ্জের সংঘর্ষ ও রক্তপাত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়– প্রতীক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কখনও কখনও বাস্তবের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে– ‘কে জিতল আর কে হারল?’ এই প্রশ্নের উত্তর সংখ্যায় নয়, বরং রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং এর অন্তর্নিহিত বার্তায় নিহিত। যারা আজ জিতেছে বলে উল্লাস করছে, তারা হয়তো সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে পাবে এই ‘জয়’ পরাজয়ের শুরু মাত্র।"