Newspaper & Media

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পুলিশের এত বড় বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। কিন্তু সেখান থেকে এই দেড় বছরেও পুলিশ বাহিনী সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের যথেষ্ট ঘাটতি দেখা গেছে। এ রকম দুর্বল অবস্থার মাঝেও পুলিশ যা করেছে তা সন্তোষজনক। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের মতো আয়োজনে শুধু পুলিশের ওপর ভরসা করার সুযোগ নেই। তবুও এখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকছে, বিজিবি থাকছে। সরকার বা রাষ্ট্রকে এখন তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টা বুঝতে হবে। এখানে সক্ষমতা প্রদর্শনের বিষয়টিও জরুরি। দ্রুত সক্ষমতা না দেখালে বিপদ বাড়বে।’ ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি এখনো আইন হাতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হলেন। এর আগে নুরুল হক নুর হামলার শিকার হন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হলো। একজন শিক্ষক যতই খারাপ হোন না কেন, তাকে এভাবে কি লাঞ্ছিত করা যায়? কিন্তু এসব প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই। বিচারও হচ্ছে না। এসব কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি খুব ভালো মনে হচ্ছে না।’

রাজনীতির এ পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে প্রতিযোগিতা না বলে দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী। যুক্তি তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতি হচ্ছে বিনিয়োগের একটি বিষয়। এটাকে নিরাপদ করতে নির্বাচনে জয়লাভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে নির্বাচন প্রতিযোগিতার পরিবর্তে দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটি দল নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকবে। কিন্তু রাজনীতির সংস্কৃতি কিন্তু বদলায়নি। তাই আগামী নির্বাচন সহিংসতা হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

‘ই*সরা*য়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমান্তরালে বিশ্বে আরেকটা শক্তি জাগ্রত হওয়া দরকার' #রাজনীতি #বিশ্ব #যুক্তরাষ্ট্র #শক্তি #usa #politics

মোড়ল রাষ্ট্রে ‘ভয়েস রেইজ’ করতে হবে : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী সময়ের আলোকে বলেন, একবিংশ শতাব্দী হওয়ার কথা ছিল মানবাধিকার রক্ষার শতাব্দী। কিন্তু বিশ্ব পুঁজির পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকে পরাক্রমশালী হয়ে যাচ্ছে। নেতৃত্বের হিপোক্রেসির জন্য সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও কাশ্মিরে কী ঘটেছে এটি সবারই জানা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় শঙ্কার জায়গা রোহিঙ্গা শরণার্থী। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে-নিকট ভবিষ্যতে এ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের আশা নেই। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়েই বিষয়টি নুইয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তিনি আরও বলেন, মোড়ল রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘকে পিকনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার নামে শরণার্থী সমস্যার মতো গুরুতর বিষয়গুলো জিইয়ে রাখছে। এ ক্ষেত্রে ওই মোড়ল রাষ্ট্রগুলোতে শরণার্থী সমস্যা নিয়ে ‘ভয়েস রেইজ’ করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি। ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন এবং সিরিয়ায় একের পর এক হামলা এবং ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা সামনে এনে পুরো অঞ্চলজুড়ে এক অশান্ত ভবিষ্যতের আভাস দিচ্ছে ইসরায়েল। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পটভূমিতে নতুন ধারা যুক্ত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক তৎপরতা, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানের মিত্রদের জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা এবং একটি ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। এ পরিস্থিতিতে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ, ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিন ধরে চলা দমন-পীড়ন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা, এবং জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। এসব বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী। তিনি সংবাদমাধ্যমে শিক্ষা, সামাজিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিশ্লেষণ ও মতামত দিয়ে থাকেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের ঢাবি প্রতিনিধি ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী নরওয়েজিয়ান সরকারের স্কলারশিপে ইউনিভার্সিটি অব বার্গেন থেকে এমফিল এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের স্কলারশিপে ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইংল্যান্ড থেকে হাইব্রিড পিসবিল্ডিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তাঁর গবেষণাকর্ম জাতিসংঘ-সম্পৃক্ত সংস্থা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রকাশনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হাইব্রিড পিসবিল্ডিং, সিকিউরিটোলজি, শরণার্থী অধ্যয়ন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে গবেষণা ও নীতিগত পরামর্শমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। পাশাপাশি তিনি সংবাদমাধ্যমে সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে বিশ্লেষণ ও মতামত দিয়ে থাকেন। সমকালের পক্ষ থেকে তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সহসম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম।

‘‘একটি মাত্র দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়”-বিএনপিকে উদ্দেশ করে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই কথার মধ্যে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকার ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা৷