Newspaper & Media

অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধের অনুপস্থিতি মানে শান্তি নয়। কাঠামোগত যে বৈষম্য সেটা সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট তৈরি করে। সমুদ্র বিজয় হলেও সমুদ্রে বাংলাদেশের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সমতল, পাহাড় ও দ্বীপে—সবখানে একই পরিস্থিতি বিদ্যমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে আমাদের সামষ্টিকভাবে প্রশ্ন তুলতে হবে।

শান্তি একটি আপেক্ষিক প্রত্যয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিপীড়ক (হোক সে ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্র) যেমন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে এক ধরনের শান্তি অন্বেষণ করে, তেমনি সেই নিপীড়ন তথা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েও মজলুম মানুষ মুক্তি তথা শান্তির পথ খোঁজে। শান্তি অন্বেষণের এই প্রক্রিয়াটি পরিবার থেকে সমাজ এবং রাষ্ট্র থেকে বিশ্ব পরিমণ্ডল পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন আন্ত সংযোগ, যা পরম্পরার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। বিশ্বশান্তি রক্ষায় যেমন জাতিসংঘের মতো সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গড়ে উঠেছে পারিবারিক ও সামাজিক রীতিনীতি।

এ বিষয়ে ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী সমকালকে বলেন, বাচ্চাগুলো একেবারেই শিশুসুলভ আচরণ দিয়ে খেলাধুলা করছিল; উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। এটা এই বয়সের একেবারে সঠিক কাজ করছিল তারা। ডাকসুর নামে কান ধরে উঠবস, লাঠি নিয়ে শাসানো শিশু নিপীড়নের পর্যায়ে পড়ে। এখানে শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। সেই শক্তিটা হচ্ছে বিধি ও আইনবহির্ভূত। তিনি বলেন, কান ধরে উঠবস করানো একেবারে গর্হিত অপরাধ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ভার্চুয়াল জগতে ভিজুয়ালাইজেশনের যুগে এই বাচ্চাগুলো যত বড় হবে, বিষয়টা তাদের ট্রমাটাইজ করার আশঙ্কা অনেক বেশি। এ জন্যই এটা আইন এবং নিয়মের মধ্যে এনে তদন্ত করা দরকার এবং এই বাচ্চাগুলোকে কাউন্সেলিং দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, সর্বমিত্র চাকমা এর আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। শুধু সর্বমিত্র নয়; ডাকসুর অধিকাংশজন নীতিমালা এবং দায়িত্ববহির্ভূত কাজই করে যাচ্ছিল। সেগুলোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় উদাসীন ছিল। সকল ঘটনা তদন্ত করে ডাকসুর কার্যক্রম সীমিত করা উচিত।

নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কীভাবে দেখছেন-জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে দলগুলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। কিন্তু দিনশেষে মানুষ আদর্শিক রাজনীতি করে না, করে পেশিশক্তির রাজনীতি। এটা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’ তিনি বলেন, ‘এখনই যেভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি বা অভিযোগের রাজনীতি শুরু হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে সহিংস ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’ বিশ্লেষকদের মতে সামনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

"Dehumanise" Hasina's father, Sheikh Mujibur Rahman, the founding president of Bangladesh, hailed from Gopalganj and is buried in the town. Statues of Rahman have been torn down nationwide, but in Gopalganj, murals and statues are well-maintained. A mosaic featuring Sheikh Mujibur Rahman, Bangladesh's first president and father of ousted prime minister Sheikh Hasina, displayed along a street at Tungipara village, his birthplace in Gopalganj. Since Hasina's downfall, clashes have broken out during campaigning by other parties, including one between police and AL supporters in July 2025, after which authorities filed more than 8,000 cases against residents. Sazzad Siddiqui, a professor at Dhaka University, believes voter turnout in Gopalganj could be the lowest in the country. Many people here are still in denial that Sheikh Hasina did something very wrong, said Siddiqui, who sat on a government commission formed after the 2025 unrest. At the same time, the government has constantly tried to dehumanise them.

‘সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন’– এ ধরনের হতাশাজনক বাক্য আজকাল বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। অনেকের মতে, এর মূলে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ‘ঘৃণার চাষ’। ঘৃণা হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসে না। ঘৃণার পেছনে কার্যকারণ সম্পর্কের যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। তবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যখন অনিয়ন্ত্রিত ঘৃণার চাষ চলে, তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোও ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ইতিহাসে এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। সম্প্রতি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার সঙ্গে ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এ ঘৃণা প্রকল্পের অংশ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অবস্থাও এতে ধরা পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা যখন সীমান্তের সমস্যা নিয়ে কথা বলছি, তখন ভারত আমাদের দেশ থেকে আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যাওয়া এবং লম্বা সময় অনির্বাচিত হয়েও প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা একজনকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আর তাদের সীমান্ত বাহিনী আমাদের দেশের অসহায় মানুষদের গুলি করে হত্যা করছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতাকে যদি আমরা সংজ্ঞায়ন করতে পারি, নিজেদের একাত্মতা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম কিংবা সীমান্তের সংকট নিয়ে সঠিকভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে কথা বলতে পারবো। যেই ভারত দুইবারের প্রহসনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, সেই ভারতই আবার সীমান্তে গরীব মানুষকে গুলি করে মারছে। এমনকি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও দিতে চায় না তারা। এ বিষয়ে যদি রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য না প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সীমান্তে আমাদের দর কষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এটা হলে সীমান্তে হত্যা নিয়ে আমরা আইনি, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারবো।

সীমান্ত পরিস্থিতিকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে না দেখে, বরং একটি কাঠামোগত, নির্মোহ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণ করার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিঃসন্দেহে সরকারের জন্য মাথাব্যথার কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে কালোটাকা, লুট হওয়া অস্ত্র ও কারাগার থেকে পালানো আসামিরা। নির্বাচনকেন্দ্রিক সময় অর্থাৎ নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি পুলিশের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনকালীন সার্বিক পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা যদি কার্যকরভাবে নেওয়া যায়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।