Newspaper & Media

যেকোনো অপরাধের মূলে ব্যক্তিগত স্খলন দায়ী। অপরাধপ্রবণতা এবং স্বার্থপরতা মানুষের একধরনের সহজাত প্রবৃত্তি বা ‘বেসিক ইন্সটিঙ্কট’। সেই অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে হয় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং সিস্টেম তথা কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে। আর সে কাজটা বাস্তবায়ন করতে হয় যথাযথ আইনের মাধ্যমে। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষালয়ের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো। একজন শিক্ষক বা ইমাম যখন জানবেন যে তাঁর প্রতিটি কাজ একটি জবাবদিহিমূলক কাঠামোর অধীনে রয়েছে, তখন তিনি এই ধরনের জঘন্য অপরাধে জড়িত হওয়ার আগে কয়েকবার ভাববেন। কিন্তু প্রায় সব মহিলা মাদ্রাসাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং পুরুষ নিয়ন্ত্রিত। কার্যত কোনো পরিচালনা পর্ষদ নেই। অনেক ক্ষেত্রে, এই ‘একনায়কতান্ত্রিক’ কাঠামো একজন ব্যক্তিকে অপরাধী হয়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়। ধর্মীয় পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও মানুষের আদিম প্রবৃত্তি বা অপরাধপ্রবণতা জাগ্রত হতে পারে, যদি সেখানে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ না থাকে। সুতরাং এটি নিছক ব্যক্তির দোষ নয়, বরং সিস্টেমের ব্যর্থতা। আমাদের সমাজে এখনো যৌন সহিংসতার শিকার নারীকে দোষারোপ করার প্রবণতা তীব্র। কখনো কখনো কেউ কেউ এই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। যদিও এমন ঘটনার সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব আসল ভিকটিমদের নিরুৎসাহিত করার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। এ ধরনের ঘটনা সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বাধা। আমি মনে করি, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। ফলে তা সত্যিকারের ভিকটিমকে সাহস জোগাবে অভিযোগ প্রকাশ করতে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে।

আশা প্রকাশ করে ড. সিদ্দিকী বলেন, আমরা আশা করি, দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে শুভেন্দু অধিকারী আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং সব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করবেন। ভারত যেমন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকের রাষ্ট্র, তেমনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও তাদের সব নাগরিকের। কোনো রাষ্ট্রই কেবল একটি ধর্ম বা একটি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য হতে পারে না। দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ দুই দেশের সম্পর্কেও স্থিতিশীলতা আনতে পারে। অন্যথায়, একতরফা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, ভারতের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজের একটি অংশও বিজেপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থানকে সমর্থন করছে, যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের উচিত হবে আবেগপ্রবণ বা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির আলোকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা। প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিবাদ জানানো এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরে এর স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী অবশ্য মনে করছেন, বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার। অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল ও কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে তৎপরতা দেখাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ এই ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। ড. সাজ্জাদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। সেটি মাথায় রেখে এই উত্তেজনায় কারও পক্ষে থাকার বাস্তবতা বাংলাদেশের নেই। কোনো দেশেরই তো যুদ্ধে জড়ানো উচিত না। বাংলাদেশেরও যুদ্ধের বিরুদ্ধে যে অবস্থান, সেটি ধরে রাখতে হবে। দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা যত বাড়বে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা তত হুমকির মুখে পড়বে। সেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ দুপক্ষের মধ্যেই সূক্ষ্ণভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারে।’সম্ভব হলে দুপক্ষের মধ্যস্ততায় বাংলাদেশও এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ড. সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য সুযোগ রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার। সরকার যদি সূক্ষ্ণভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারে, মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা এই সরকারের ভাবমূর্তিকে যেমন বাড়িয়ে তুলবে, তেমনি পরবর্তী যেকোনো সরকারের জন্যও কূটনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী একটি অবস্থান গড়ে দিয়ে যেতে পারবে।’

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে চরিত্রহনন, সংঘবদ্ধ আক্রমণ ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সুস্থ ধারায় ফিরতে দিচ্ছে না। এসব প্রবণতা কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির ও অনিশ্চিত করে তুলছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে চরিত্রহনন, সংঘবদ্ধ আক্রমণ ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সুস্থ ধারায় ফিরতে দিচ্ছে না। এসব প্রবণতা কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির ও অনিশ্চিত করে তুলছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক শূন্যতা বা স্থবিরতার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। আমার কাছে মনে হয়, এই নেতিবাচক প্রবণতার অন্যতম বড় বাহক হয়ে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এ রাজনীতি বিশ্লেষক বলেন, আমাদের সমাজে একসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু আধুনিকতার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়েই তথাকথিত স্বাধীনতার নামে আমরা ‘পোস্ট-মডার্ন’ সংস্কৃতিকে মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহিত করছি। এই অবাধ ও অসংযত বক্তব্যের পেছনে আছে পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থা, সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের বিকৃত মানসিকতা এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো অনেকক্ষেত্রে নিজেদের হীন স্বার্থে এসব কার্যক্রমকে উৎসাহ ও প্রচার দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ঢাবির এ অধ্যাপকের ভাষ্য, এটি শুধু কোনো নির্দিষ্ট দলের শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাধারণ মানুষও আজ এই অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। অথচ নীতিবহির্ভূত কোনো আচরণের প্রতিক্রিয়ায় নিপীড়নমূলক পন্থা নয়, বরং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবেই একজন ব্যক্তি অন্য কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে পারেন। কিন্তু সেই বিরূপতা বা অপছন্দের প্রকাশ যদি এমনভাবে ঘটে যা সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতি গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে গভীর সংকট সৃষ্টি করে। তাই বিরোধিতা বা সমালোচনা হওয়া উচিত কাঠামোবদ্ধ ও দায়িত্বশীল উপায়ে। বিশেষ করে, রাষ্ট্রের প্রভাবশালী ও অনুকরণীয় ব্যক্তিরা যদি এক্ষেত্রে ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করেন, তবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনেকটাই সুস্থ ধারায় ফিরতে পারে। কিন্তু তারাই যদি নীতিচ্যুত হন, তবে সেটিই সমাজের অগ্রগতির পথে স্থায়ী ও বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সংকট সমাধানের উপায় জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, মূল ধারার সংবাদমাধ্যম এই ধরণের বক্তৃতা ও বিবৃতির নেতিবাচক দিক স্পষ্ট করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতাকর্মীদের নজরদারিসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

অনেকের ধারণা, শান্তিচুক্তি হলেই হয়তো শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, শান্তি তার গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। বাস্তবে শান্তির কোনো গন্তব্য নেই, শান্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। হয়তো এর আপেক্ষিকতার ওপর নির্ভর করে যে কোন ধরনের শান্তি (ইতিবাচক, নেতিবাচক) কখন বিরাজ করছে বা করবে। এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করার আগে কিছু ঐতিহাসিক বাস্তবতা স্মরণে রাখা প্রয়োজন। ১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় দুই হাজার শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে ধরলে এই সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শান্তিবিশারদদের গবেষণা বলছে, স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির প্রায় ৫০ শতাংশই প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে অকার্যকর হয়ে পড়ে। অর্থাৎ শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের হার বেশ হতাশাজনক। ট্রাম্পের এই ধরনের অবস্থান স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা কমিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে পরাজয়ের গ্লানি মোছার শেষ চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় ইরানের পক্ষে কেবল প্রতিরোধ অব্যাহত রাখাই হবে দিন শেষে দেশটির কৌশলগত বিজয় এবং সেই সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ।

এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রগুলোর সামনে এখন একমাত্র পথ হলো ‘ব্যালেন্স অব পাওয়ার’ বা শক্তির ভারসাম্য নিশ্চিত করা। স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার ‘লং পিস’ বা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির মূলে ছিল দুটি পরাশক্তির মধ্যকার ক্ষমতার সমতা। আজ যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউনিপোলার সিস্টেম বা একপাক্ষিক আধিপত্যের মাধ্যমে বিশ্ব শাসন করতে চায়, তখন ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তির উত্থান কেবল একটি ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক আবশ্যকতা। ইরান যদি এই সংকটে টিকে থাকতে পারে, তবেই তা মধ্যপ্রাচ্যে অবাঞ্ছিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের উচ্চাভিলাষকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।

শান্তি একটি আপেক্ষিক প্রত্যয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিপীড়ক (হোক সে ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্র) যেমন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে এক ধরনের শান্তি অন্বেষণ করে, তেমনি সেই নিপীড়ন তথা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েও মজলুম মানুষ মুক্তি তথা শান্তির পথ খোঁজে। শান্তি অন্বেষণের এই প্রক্রিয়াটি পরিবার থেকে সমাজ এবং রাষ্ট্র থেকে বিশ্ব পরিমণ্ডল পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন আন্ত সংযোগ, যা পরম্পরার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। বিশ্বশান্তি রক্ষায় যেমন জাতিসংঘের মতো সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গড়ে উঠেছে পারিবারিক ও সামাজিক রীতিনীতি।

এ বিষয়ে ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী সমকালকে বলেন, বাচ্চাগুলো একেবারেই শিশুসুলভ আচরণ দিয়ে খেলাধুলা করছিল; উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। এটা এই বয়সের একেবারে সঠিক কাজ করছিল তারা। ডাকসুর নামে কান ধরে উঠবস, লাঠি নিয়ে শাসানো শিশু নিপীড়নের পর্যায়ে পড়ে। এখানে শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। সেই শক্তিটা হচ্ছে বিধি ও আইনবহির্ভূত। তিনি বলেন, কান ধরে উঠবস করানো একেবারে গর্হিত অপরাধ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ভার্চুয়াল জগতে ভিজুয়ালাইজেশনের যুগে এই বাচ্চাগুলো যত বড় হবে, বিষয়টা তাদের ট্রমাটাইজ করার আশঙ্কা অনেক বেশি। এ জন্যই এটা আইন এবং নিয়মের মধ্যে এনে তদন্ত করা দরকার এবং এই বাচ্চাগুলোকে কাউন্সেলিং দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, সর্বমিত্র চাকমা এর আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। শুধু সর্বমিত্র নয়; ডাকসুর অধিকাংশজন নীতিমালা এবং দায়িত্ববহির্ভূত কাজই করে যাচ্ছিল। সেগুলোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় উদাসীন ছিল। সকল ঘটনা তদন্ত করে ডাকসুর কার্যক্রম সীমিত করা উচিত।

নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কীভাবে দেখছেন-জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে দলগুলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। কিন্তু দিনশেষে মানুষ আদর্শিক রাজনীতি করে না, করে পেশিশক্তির রাজনীতি। এটা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’ তিনি বলেন, ‘এখনই যেভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি বা অভিযোগের রাজনীতি শুরু হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে সহিংস ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’ বিশ্লেষকদের মতে সামনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

"Dehumanise" Hasina's father, Sheikh Mujibur Rahman, the founding president of Bangladesh, hailed from Gopalganj and is buried in the town. Statues of Rahman have been torn down nationwide, but in Gopalganj, murals and statues are well-maintained. A mosaic featuring Sheikh Mujibur Rahman, Bangladesh's first president and father of ousted prime minister Sheikh Hasina, displayed along a street at Tungipara village, his birthplace in Gopalganj. Since Hasina's downfall, clashes have broken out during campaigning by other parties, including one between police and AL supporters in July 2025, after which authorities filed more than 8,000 cases against residents. Sazzad Siddiqui, a professor at Dhaka University, believes voter turnout in Gopalganj could be the lowest in the country. Many people here are still in denial that Sheikh Hasina did something very wrong, said Siddiqui, who sat on a government commission formed after the 2025 unrest. At the same time, the government has constantly tried to dehumanise them.